প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত তুলো উৎপাদন মরশুমে কটন কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (সিসিআই)-কে ১৭,৪০৮.৮৫ কোটি টাকার সহায়তা মূল্য দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এতে তুলো চাষীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ তুলো উৎপাদন বর্ষ পর্যন্ত চাষীরা তুলোর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন। এটি বাস্তবায়নের ফলে দেশের আর্থিক কর্মকাণ্ডে তুলো চাষীদের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে। এমনকি কৃষকদের দুর্দশা দূর করতেও সাহায্য করবে।
তুলো হলো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকারী ফসল। এর সঙ্গে প্রায় ৫৮ লক্ষ তুলো চাষীর জীবন-জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি, তুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসার মতো একাধিক কার্যকলাপের সঙ্গে ৪০০ থেকে ৫০০ লক্ষ লোকের রুটিরুজি যুক্ত।
২০২০-২১ তুলো উৎপাদন মরশুমে দেশে ১৩৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে তুলো চাষ হয়েছে। এর থেকে ৩৬০ লক্ষ বেল তুলো উৎপাদিত হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট তুলো উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ। কমিশন ফর এগ্রিকালচারাল কস্টস অ্যান্ড প্রাইসেস (সিএসিপি)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার তুলোর বীজের (কাপাস) ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করে থাকে।
কেন্দ্রীয় সরকার সিসিআই-কে কেন্দ্রীয় নোডাল এজেন্সি হিসেবে নিয়োগ করেছে। তুলোর দাম ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নীচে নেমে গেলে এই সংস্থা কৃষকদের কাছ থেকে উন্নতমানের তুলো সংগ্রহ করে থাকে। পাশাপাশি যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তুলো চাষীরা যাতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পান, সেদিকেও নজর রাখে।
দেশের ১৪৩টি জেলায় ৪৭৪টি তুলো ক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মূলত, দেশের ১১টি প্রধান তুলো উৎপাদিত রাজ্যগুলিতেই সিসিআই এই পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ গত দুটি তুলো উৎপাদন মরশুমে বিশ্ব মহামারীর সময় সিসিআই দেশে উৎপাদিত তুলোর এক তৃতীয়াংশ কিনে নেয়। এতে প্রায় ৪০ লক্ষ কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৫৫ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে। বর্তমান তুলো উৎপাদন মরশুমে সিসিআই ইতিমধ্যেই দেশের প্রধান ১১টি তুলো উৎপাদনকারী রাজ্যে ৪৫০টিরও বেশি তুলো ক্রয় কেন্দ্র খুলেছে। কৃষকরা যাতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে তুলো বিক্রি করতে পারেন তার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।