লেখিকা : সাবাতিনি চ্যাটার্জী
অবশেষে ২৬ জুলাই ,২০২১ এ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বি এস ইয়েদুরাপ্পা (B S Yediyurappa)। সোমবার এমনটাই জানালেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। বেশ কিছুদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ইয়েদুরাপ্পা। শেষমেষ নিজের সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি। বিগত দুই বছর ধরে তিনি কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন, প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিএম কুমারস্বামী কে প্রতিস্থাপন করে তিনি তৎকালীন মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কর্ণাটক গভর্নমেন্ট তার এই পদত্যাগ গ্রহণ করেছে।
তিনি এর আগে ২০০৭ সালে নভেম্বর মাসে এক সপ্তাহের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল অব্দি তিনি আবার মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের হওয়ার জন্য তিনি 2011 সালে পদত্যাগ করেছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি ফের দুদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে কর্মরত ছিলেন , এরপর ২০১৯ সালে তিনি তার রাজ্যে বিজেপি সরকার করতে সক্ষম হন কারণ সেই সময় ১৭ জন এমএলএ কংগ্রেস এবং জেডিএস ছেড়ে দিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করে ।
বৃহস্পতিবারই(২২ শে জুলাই) তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে যা নির্দেশ দেবে তাই মেনে চলবেন তিনি। তারপরেই কর্ণাটকের মসনদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন ইয়েদুরাপ্পা। তিনি জানিয়েছিলেন, ”হাইকমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি। আমাকে তা জানান হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক মাস ধরে কর্ণাটকের শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল ইয়েদুরাপ্পার। তাছাড়াও সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনায় চাপও বাড়ছিল তাঁর উপর। দলীয় রাজ্য নেতৃত্ব নাকি রদবদলের দাবি করেছিল। যার জেরে জোরালো হচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রীত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি ।
বিজেপি পার্টির হাইকমান্ড থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি , তবে ইয়েদুরাপ্পা জানিয়েছেন দলের প্রবীণ নেতারা শীঘ্রই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি জানিয়েছেন কেউ তাকে দল ছাড়তে বাধ্য করেননি এবং পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তটি একান্তই তার নিজের ছিল। মুখ্যমন্ত্রী এই মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সাভাপতি জে পি নডডা সহ প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এর পরেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা এবং কর্ণাটকের প্রাক্তন সিএম সিদ্ধারামাইয়া জানিয়েছেন যে “বিজেপিতে ক্ষমতার রাজনীতি চলছে “ , যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ,যখন মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত একজন মুখ্যমন্ত্রী কে সরিয়ে আরেকজন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষকে সেই পদে বসালে সাধারণ মানুষের এতে কোনো লাভ নেই। সিদ্ধারামাইয়া জানিয়েছেন “মানুষের আজ এই দুর্দশার জন্য বিজেপি দল দায়ী”। বর্তমান প্রসঙ্গে বিজেপির পদত্যাগের পরে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং কর্ণাটকের ইনচার্জ অরুণ সিং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। অরুণ সিং দিল্লিতে পিটিআইয়ের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন “আমি এখনই কিছু বলব না। বিজেপির সংসদীয় বোর্ড পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনসভা দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে,” ইয়েদুরাপ্পার পদত্যাগের পর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে নাম উঠছে আর অশোক, বাসবরাজ বোম্মাই, মুর্গেশ নিরানি, অশ্বথ নারায়ণ, সিটি রবি, প্রহ্লাদ যোশী।